হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, শহীদ পরিবারের সদস্য, অসংখ্য জিয়ারতকারী এবং আহলে বাইত (আ.)-এর ভক্তদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ত্যাগ, প্রতিরোধ এবং ‘জিহাদে তাবইন’ (সত্য ও ইসলামী মূল্যবোধের সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রচারের সংগ্রাম)-এর সংস্কৃতি প্রসার করা।
অনুষ্ঠানে দেই মাসের ফিতনা এবং রমজান যুদ্ধের শহীদদের পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয়। এর মধ্যে শহীদ আসাদি, শহীদ আব্বাসিয়ান এবং শহীদ আহমাদি-র পরিবারকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় কোম জেলার ওয়াক্ফ ও দাতব্য বিষয়ক দপ্তরের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ নূরুদ্দীন সামাদানি আশুরার আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলন সম্পর্কে জ্ঞানভিত্তিক, বাস্তবমুখী ও গভীর উপলব্ধি অর্জন এবং ‘জিহাদে তাবইন’ ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে হযরত যায়নাব (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এরপর হাওজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাসুমা জাহিরি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সাহাবিদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দূরদর্শিতা (বাসিরাত), শত্রুকে সঠিকভাবে চেনা, ইমামের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য (বেলায়াতপন্থা) এবং অবিচলতা-এই চারটি গুণ সত্যের পক্ষে অবস্থানকারী শক্তিকে চিরস্থায়ী করেছে। তিনি হযরত যায়নাব (সা.)-কে ধৈর্য, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আশুরার বার্তা প্রচারের সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরে মিসেস দেহকান, যিনি রমজান যুদ্ধের শহীদদের একজনের স্ত্রী এবং অন্য শহীদদের বোন, তাঁদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আন্তরিকতা, সাহস, প্রচারবিমুখতা এবং প্রতিরোধের মনোভাব ছিল তাঁদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদরা শাহাদাত লাভের আগেই তাঁদের কর্ম ও চরিত্রে একজন প্রকৃত শহীদের গুণাবলি ধারণ করতেন।
‘রাহরাওয়ানে যায়নাবি’ বিশেষ অনুষ্ঠানটি আশুরার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় হযরত যায়নাব (সা.)-এর ভূমিকা তুলে ধরা, শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ত্যাগ ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘বাসিরাতে আশুরায়ি’ শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পবিত্র ইমামজাদে সাইয়্যেদ আলী (আ.)-এর মাজারে অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার কমেন্ট